ষোড়শ মহাজনপদ || Indian History in Bengali

ষোড়শ মহাজনপদ || Indian History in Bengali

Indian History in Bengali

1. ভারতবর্ষের ষোড়শ মহাজনপদের কথা জানা যায় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অঙ্গুত্তর নিকায়।

2. আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ষোড়শ মহাজনপদ গড়ে উঠেছিল।

3. অঙ্গ, মগধ, কাশি, কোশল, মল্ল, বৃজি, বৎস, চেদি, কুরু, পাঞ্চাল, অবন্তী, সুরসেন, গান্ধার, কম্বোজ, মৎস্য, অস্মক।

4. অঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ছিল চম্পা নামক এলাকায়, অঙ্গরাজ্য বর্তমান ভারতবর্ষের মুঙ্গের এবং ভাগলপুর এলাকায় অবস্থিত। অঙ্গ প্রথমে স্বাধীন রাজ্য হলেও পরবর্তীতে বিন্দুসার এর রাজত্বকালে মগধের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

5. মগধ রাজ্যের রাজধানী ছিল গিরিব্রজ রাজগৃহে এলাকায়, মগধ রাজ্য বর্তমান পাটনা, গয়া এবং সাহাবাদের কিছু অংশ ছিল।

6. কাশি রাজ্যের রাজধানী ছিল বেনারস এলাকায়, বর্তমান উত্তরপ্রদেশের বারানসি জেলায় ছিল এর অবস্থান।

7. কোশল রাজ্যের রাজধানী ছিল শ্রাবন্তী এলাকায় এটি বর্তমান ফাইজাবাদ, গন্ডা ও বাহরাইচ- এ অবস্থিত।

8. মল্ল রাজ্যের রাজধানী ছিল কুসিনারা ও পাবা এলাকায়, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এলাকায় অবস্থিত। পরবর্তীকালে রাজ্যটিও মগজ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

9. বৃজি রাজ্যের রাজধানী ছিল বৈশালী এলাকায়, এটি গঙ্গা নদীর উওরে অবস্থিত (বিহার রাজ্যে) লিচ্ছবি এবং বিদেহ রাজ্যের রাজারাও এখানে বাস করতেন।

10. বৎস্য রাজ্যের রাজধানী ছিল কোশাম্বী এলাকায়, এটি বর্তমানে এলাহাবাদ এবং মির্জাপুর জেলায় অবস্থিত।

11. চেদি রাজ্যের রাজধানী ছিল শক্তিমতি এলাকায়, এটি বর্তমানে বুন্ডেলখন্ড রাজ্যে অবস্থিত।

12. কুরু রাজ্যের রাজধানী ছিল হস্তিনাপুর এবং ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকায়, এটি বর্তমানে যমুনা নদীর পশ্চিমে অর্থাৎ হরিয়ানা ও দিল্লিতে অবস্থিত।

13. পাঞ্চাল রাজ্যের রাজধানী ছিল কাম্পিল্য ও অহিদছত্র এলাকায়, এটি বর্তমানে রহিলখন্ড ও উত্তরপ্রদেশের দোয়াবের কিছু অংশে অবস্থিত।

14. অবন্তি রাজ্যে রাজধানী ছিল উজ্জয়িনী এলাকায়, এটি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের মালব অঞ্চলে অবস্থিত।

15. সুরসেন রাজ্যের রাজধানী ছিল মথুরা এলাকায়, এটি বর্তমানে উত্তর পথ ও দক্ষিণ পথের সংযোগস্থল মথুরাতে অবস্থিত।

16. গান্ধার রাজ্যের রাজধানী ছিল তক্ষশীলা, এটি বর্তমান কাবুল ও রাওয়ালপিন্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

17. কম্বোজ রাজ্যের রাজধানী ছিল রাজপুর এলাকায় বর্তমানে কাশ্মীরে অবস্থিত।

18. মৎস্য রাজ্যের রাজধানী ছিল বিরাট নগরীতে বর্তমানে আলুর ভাতারপুর ও জয়পুরে অবস্থিত।

19. অস্মক রাজ্যটি মহারাষ্ট্রের গোদাবরী নদীর তীরে পৈঠান এলাকায় অবস্থিত।

20. পরবর্তীকালে এই 16 টি মহাজনপদের মধ্যে চারটি মুখ্য রাজ্য নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল এগুলি হল- বৎস, অবন্তী, কোশল।

21. বৎস বংশের সবথেকে শক্তিশালী শাসক ছিল উদয়ন; উদয়ন এর মৃত্যুর পর এ রাজ্যটি অবন্তী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

22. অবন্তী রাজ্যের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন প্রদ্যোত্ত; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কিন্তু পরবর্তীকালে এই অবন্তী রাজ্যটি মগদ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

23. কোশল রাজ্য সবথেকে জনপ্রিয় শাসক ছিলেন প্রসেনজিৎ; প্রসেনজিৎ এর বোনের সাথে বিম্বিসারের বিবাহ হওয়ায় প্রসেনজিৎ যৌথ হিসেবে কাশি রাজ্য নগদকে দিয়েছিলেন; এরপর প্রসেনজিতের মৃত্যু ঘটলে রাজ্য কোশল মগধের অন্তর্ভুক্ত হয়।

24. ভারতের সবথেকে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; এই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বৃহদ্রথ ও জরাসন্ধ।

 

প্রতিদিন এই ধরনের পোস্ট পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও টেলিগ্ৰাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান 

আরও পড়ুন:- জৈন ধর্মের ইতিহাস 

 

Leave a comment