সিন্ধু সভ্যতা || Indus Valley Civilization

সিন্ধু সভ্যতা || Indus Valley Civilization

Indus Valley Civilization

সিন্ধু সভ্যতা || Indus Valley Civilization

1. রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় (১৯২২-১৯২৩) সালে মহেঞ্জোদারোতে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা গুলির মধ্যে একটি সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন; (তথ্যসূত্র: জন মার্শালের একটি বিবৃতি ১৯২৪ সাল)।

2. মহেঞ্জোদারো বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত।

3. ১৯২১ সালে মহেঞ্জোদারোর কয়েকশো মাইল উত্তরে হরপ্পায় সিন্ধু সভ্যতার প্রথম কেন্দ্র আবিষ্কার করেন দয়ারাম সাহানি; হরপ্পা বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত।

4. সিন্ধু সভ্যতা ১.৩ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং ত্রিভুজাকার ছিল; এটি পশ্চিমে বিস্তৃত ছিল দক্ষিণ বালুচিস্তানের সুৎকাগেন্দর পর্যন্ত এবং পূর্বে উত্তরপ্রদেশের আলমগীরপুর পর্যন্ত; উত্তরের বিস্তৃত ছিল আফগানিস্তানের শর্তুঘায় পর্যন্ত এবং দক্ষিণে মহারাষ্ট্র রাজ্য এর দাইমাবাদ পর্যন্ত।

5. সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনার পরিচয় পাওয়া যায় মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, লোথাল, কালিবঙ্গান, সুৎকাগেন্দর-এ।

6. সিন্ধু সভ্যতার নগরের পশ্চিমাংশে অধিক উচ্চতায় অবস্থিত সমাজ সিটাডেল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের চতুর্দিকে প্রাচীর বেষ্টন করে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হতো।

7. এই সময়ে রোদে পড়া ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করা হতো, এমনই দর্শন পাওয়া গেছে লোথাল এবং কালিবঙ্গান -এ।

8. সিন্ধু সভ্যতার মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল গম এবং বার্লি।

9. হরপ্পার মানুষেরা সিন্দুর চিত্র দ্বারা লিখন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করত।

10. হরপ্পার অর্থনীতি ছিল প্রধানত কৃষিকাজ নির্ভর; বার্লি, গম, তুলো, জোয়ার, তিল, সরষে, ফল ও সবজি চাষ করা হতো।

11. হরপ্পার মানুষেরা জল সেচের ব্যবস্থাও জানতো; বালুচিস্থানের জল সংরক্ষণ করার জন্য পাথরের বাঁধ ব্যবহার হতো।

12. কালিবঙ্গান -এ উটের হাড় এবং সুরকোটাডায় ঘোড়ার হাড় পাওয়া গেছে; এই কারণে অনুমান করা হয় তারা পশু পালনও করত।

13. হস্তশিল্পের ক্ষেত্রে টেরাকোটা শিল্প ছিল সিন্ধু সভ্যতার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এছাড়া পুতির মালা তৈরি, মাটির কাজ, ধাতব বস্তু, জাহাজ তৈরি, সীলমোহর ইত্যাদি উল্লেখও পাওয়া যায়।

14. পুতির মালা তৈরি শিল্প লোথাল, ধোলাবিরা ও চানহুদারোতে পাওয়া যায়।

15. বিভিন্ন ধাতুর তৈরি জিনিসের শিল্প লোথাল ধোলাবিরা এবং শঙ্কুর -এ পাওয়া যায়।

16. সুতিবস্ত্র তৈরি কেন্দ্র ছিল মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা এবং চানহুদারো।

17. যাতায়াতের জন্য তাদের গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র সহায়; কিন্তু নদীপথে বাণিজ্যের জন্য তারা ছোট নৌকা ব্যবহার করত।

18. কিছু মুদ্রার নিদর্শন পাওয়া গেলেও বিনিময় প্রথা ছিল সেই সময়কার একমাত্র লেনদেনের একমাত্র মাধ্যম।

19. সিন্ধু সভ্যতায় একাধিক কবরে নিদর্শন পাওয়া যায়, লোথাল -এ; কফিন কবরের ব্যবস্থা দেখতে পাওয়া যায় হরপ্পা এবং লোথাল-এ; একটি নির্দিষ্ট পাত্রের মধ্যে কবরের ব্যবস্থা দেখতে পাওয়া যায়, সুরকোটাডা এবং লোথাল-এ।

20. হরিয়ানার ফারমানাতে মাটি খুঁড়ে ৭০টি কবরের এক বৃহৎ কবরখানা পাওয়া গেছে।

21. হরিয়ানার রাখিগারহিতে হরপ্পার সময়কার চারটি কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

22. রাজস্থানের বিজনোর এ এক মহিলার কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

23. উত্তরপ্রদেশের চন্দ্রায়ন এ তামার মুকুট পরিহিত কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

24. প্রোটো শিব এর মূর্তি পাওয়া গেছে হরপ্পায়।

25. সিটাডেল, বৃহৎ স্নানাগার, বৃহৎ শস্যাগার ইত্যাদি পাওয়া গেছে মহেঞ্জোদারোতে।

26. বৃহৎ জলের ট্যাংক, স্টেডিয়াম, বাঁধ, জলাধার, বিজ্ঞাপন বোর্ড ইত্যাদি পাওয়া গেছে ধোলাবিরাতে।

27. নৌ বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বন্দর, ধানের তুষ, অগ্নিকুণ্ড, আধুনিক যুগের দাবা, টোরাকোটার জাহাজ, ঘোড়ার মূর্তি, পরিমাপ যন্ত্র ইত্যাদি পাওয়া গেছে লোথাল এ।

28. তামার তৈরি কুঠার পাওয়া গেছে হরপ্পায়।

29. প্রথম ঘোড়ার হাড় পাওয়া যায় সুরকোটাডা তে।

30. সিন্ধু সভ্যতার লিপি এখান এখনো পাঠাদ্ধোর করা যায়নি; এটি একটি প্রাক দ্রাবিড় এবং বস্ট্রোফেডন প্রকৃতির লিপি; যেখানে একটি লাইন ডান দিক থেকে বাম দিকে এবং তার পরের লাইন বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হয়েছে।
এটি একটি সাংকেতিক লিপি এবং এই লিপিতে বর্ণের সাথে সাথে ছবি এবং বিভিন্ন সংকেত ব্যবহৃত হয়েছে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রকমের ভিন্ন সংকেত এই লিপিতে ব্যবহার হয়েছে।

31. সিন্ধু সভ্যতার প্রধান শিল্প কেন্দ্র ছিল মহেঞ্জোদারো।

32. সিন্ধু সভ্যতার মুখ্য দেবতা ছিলেন পশুপতি মহাদেব বিভিন্ন সীলমোহর-এ; তার ধ্যানরত প্রতিকৃতি লক্ষ্য করা যায়।

33. কৃষি কাজে ব্যবহৃত কাঠের লাঙ্গল পাওয়া গেছে কালিবঙ্গান এ।

34. সিন্ধু সভ্যতার মোট ১৪০০ জনবসতি চিহ্ন আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে।

35. সিন্ধু সভ্যতার সব থেকে বড় শহর মহেঞ্জোদারো এবং সব থেকে ছোট শহর আল্লাহদিনো।

36. ভারতবর্ষের মধ্যে সিন্ধু সভ্যতার সবথেকে বড় শহর ধোলাবিরা, রাখিগড়ি।

37. ব্রোঞ্জ ধাতুতে খোদাই করা নৃত্যরত বালিকা মূর্তি পাওয়া গেছে মহেঞ্জোদারোতে।

38. তামার তৈরি ষাঁড় মূর্তি পাওয়া গেছে কালিবঙ্গান-এ।

39. ব্রোঞ্চের তৈরি ষাঁড় মূর্তি পাওয়া গেছে দাইমাবাদে।

40. তামার তৈরি হাতি মূর্তি এবং গন্ডারের মূর্তি পাওয়া গেছে দাইমাবাদ-এ।

41. সিন্ধু সভ্যতার মুখ্য বাণিজ্য পণ্য ছিল তুলো।

42. ২৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়ার নথি থেকে জানা যায় যে মেলুহার (সিন্ধু সভ্যতা) বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল; সেই কারণেই আক্কাদিয়ান সিন্ধু অঞ্চলকে সবথেকে প্রাচীন বলে নাম দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিদিন এই ধরনের পোস্ট পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও টেলিগ্ৰাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান 

আরও পড়ুন:-১০০+ ভারতের ভূগোল প্রশ্ন উত্তর 

 

 

 

Leave a comment