কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন , সাতবাহন সাম্রাজ্য || Kushan Emire in Bengali

কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন , সাতবাহন সাম্রাজ্য || Kushan Emire in Bengali

Kushan Emire in Bengali

• মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর যে সমস্ত বৈদেশিক জাতি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল, তাদের মধ্যে কুশাণরাই ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। কুশানরা ছিল চীনের উত্তর-পশ্চিম অংশে ইউ-চি নামে এক যাযাবর জাতির শাখা।

• চীন ঐতিহাসিক সুমা কিয়েনের মত অনুযায়ী কুজুল কদফিসেস নামে জৈনিক ইউ-চি গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেন ও ভারতে প্রবেশ করে কাবুল ও কাশ্মীর দখল করেন। কুজুল কদফিসেস বা প্রথম কদফিসেস ছিলেন কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। কুজুল কদফিসেসের মৃত্যুর পর কুষাণ সাম্রাজ্যের সম্রাট হন বিম কদফিসেস বা দ্বিতীয় কদফিসেস। কুষাণ সম্রাট বিম কদফিসেস ‘মহেশ্বর’ নামে পরিচিত।

• কুষাণ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট হলেন সম্রাট কনিষ্ক। তিনি ৭৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসন আহরণ করেন।

• ৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শকাব্দ’ নামক যে বর্ষগণনা শুরু হয়, সম্রাট কনিষ্ক ছিলেন তাঁর প্রবর্তক। সম্রাট কনিষ্ক কে দ্বিতীয় অশোক বলা হত।

• কুশান রাজাদের সময় গান্ধার শিল্পের বিকাশ ঘটে। কুষাণ যুগে গান্ধার, মথুরা ও অমরাবতী তে শিল্পরীতির প্রসার ঘটে। গান্ধার শিল্প রীতি ছিল গ্রীক, রোমান ও ভারতীয় শিল্প রীতি এর সংমিশ্রণ।

• কনিষ্কের বিখ্যাত মস্তকহীন মূর্তি পাওয়া যায় মথুরাতে।

• ‘ময়ূর’ এর চিহ্নযুক্ত রৌপ্য মুদ্রা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত প্রচলন করেন এবং প্রথম চন্দ্রগুপ্ত প্রচলন করেন ‘গুপ্তাব্দ’।

• কুষাণ সম্রাট কনিষ্কের রাজত্বকালে চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলন কাশ্মীরের কুন্দলবন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন বসুমিত্র এবং সহ-সভাপতি ছিলেন অশ্বঘোষ।

• কনিষ্কের রাজধানী ছিল পুরুষপুর বা পেশোয়ার। কুষাণ বংশের শেষ সম্রাট ছিলেন বাসুদেব, তিনি সম্ভবত ২৩২ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।

• কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর সাতবাহন রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন সিমুক।

• সাতবাহনদের আদি বাসস্থান ছিল মহারাষ্ট্রে। পুরানে সাতবাহনাদের অন্ধ্র বা অন্ধ্রভৃত্য বলা হয়েছে, যা থেকে অনুমান করা হয় সাতবাহনাদের আদি বাসস্থান ছিল অন্ধ্রপ্রদেশ।

• সাতবাহন সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন গৌতমি পুত্র সাতকর্ণী তিনি ছিলেন ২৩ তম রাজা।

• ১০৬ খ্রিস্টাব্দে ১০৬ খ্রিস্টাব্দে গৌতমি সাতকর্ণী রাজ্য লাভ করেন। তাঁর মাতা গৌতমি বলশ্রীর লেখা “নাসিক প্রশস্তি” থেকে তার বিজয় কাহিনীর জানা যায়। তিনি শক, গ্রীক ও পল্লবদের শক্তি খর্ব করেছেন বলে দাবি করেছেন।

• রানাঘাট শিলালিপি থেকে প্রথম সাতকর্ণীর কীর্তি জানা যায়।

• সাতবাহন সাম্রাজ্যের শেষ শক্তিশালী সম্রাট ছিলেন যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণী।

• সাতবাহন বংশের শাসক প্রথম সাতকর্ণীর রাজধানী ছিল পৈঠান বা প্রতিষ্ঠান। তিনি ‘দক্ষিণাপথপতি’ ও ‘অপ্রতিহতচক্র’ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন সাতবান বংশের তৃতীয় শাসক।

 

প্রতিদিন এই ধরনের পোস্ট পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও টেলিগ্ৰাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান 

আরও পড়ুন:- মৌর্য বংশের ইতিহাস 

 

 

 

 

 

 

Leave a comment